শরীয়তপুর জেলার ইতিহাস, দর্শনীয় স্থান ও তথ্য সমূহ

শরীয়তপুর জেলা বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের একটি জেলা। এটি উত্তরে মুন্সীগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে বরিশাল জেলা, পূর্বে চাঁদপুর জেলা এবং পশ্চিমে মাদারীপুর জেলা দ্বারা বেষ্টিত। এ জেলার সদর দপ্তর শরীয়তপুর শহরে। শরীয়তপুর জেলার অর্থনীতি কৃষি, মাছ ধরা এবং নদী পরিবহনের উপর নির্ভরশীল। জেলায় উৎপাদিত প্রধান ফসল ধান, পাট, গম এবং শাকসবজি। এছাড়াও জেলাটিতে রাইস মিল, জুট মিল এবং টেক্সটাইল মিল সহ বেশ কয়েকটি শিল্পের আবাসস্থল।

শরীয়তপুর জেলার প্রধান নদীগুলো হলো পদ্মা, মেঘনা, পালং, জয়ন্তী, কীর্তিনাশা ও ধর্মগঞ্জ। জেলায় আড়িয়াল বিল, ভোলা বিল এবং হরিহরপাড়া বিল সহ বেশ কয়েকটি খালের আবাসস্থল। এই জেলায় প্রাচীন সোনারগাঁও শহরের ধ্বংসাবশেষ, হযরত শাহ মখদুম রুমির সমাধি এবং হযরত শাহ জালালের মাজার সহ বহু ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানের আবাসস্থল। জেলাটি আড়িয়াল বিল, ভোলা বিল এবং হরিহরপাড়া বিল সহ অনেকগুলি প্রাকৃতিক আকর্ষণের আবাসস্থল।

Shariatpur-District

শরীয়তপুর নামকরণ ও জেলার ইতিহাস

শরীয়তপুর জেলা পূর্বে ফরিদপুর মহকুমার অধীন পালং থানা নামে পরিচিত ছিল। ১৯৮৪ সালে এটিকে শরীয়তপুর মহকুমায় রূপান্তরিত করা হয় এবং পরবর্তীতে 6টি উন্নীত থানা সহ জেলায় রূপান্তর করা হয়। এর নামকরণ করা হয় হাজী শরীয়তুল্লাহ (১৭৮১-১৮৪০), যিনি ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এবং ব্রিটিশ রাজের সময় একজন বিশিষ্ট ইসলামী সংস্কারক ছিলেন।

হাজী শরীয়তুল্লাহ ফরিদপুর জেলার পালং থানার চরভাগ গ্রামে ১৭৮১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শাহ মুহাম্মদ কাসিম নামে একজন মুসলিম পণ্ডিতের বংশধর ছিলেন। শরীয়তউল্লাহ প্রাথমিক শিক্ষা নিজ গ্রামে এবং পরবর্তীতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মাদ্রাসায় লাভ করেন। তিনি একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন এবং শীঘ্রই ইসলামী আইন ও আইনশাস্ত্রের একজন পণ্ডিত হয়ে ওঠেন।

১৮১৮ সালে শরীয়তুল্লাহ ফরায়েজি আন্দোলন শুরু করেন এটি একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন যার লক্ষ্য ছিল ইসলামকে শুদ্ধ করা এবং এটিকে তার মূল শিক্ষায় ফিরিয়ে আনা। ফরায়েজি আন্দোলন ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। ব্রিটিশ সরকার আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। ফরায়েজি আন্দোলন ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তা ভারতের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৮৪০ সালে মারা যান। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী সংস্কারকদের একজন হিসেবে বিবেচিত হন। ইসলাম ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শরীয়তপুর জেলার নামকরণ করা হয় তাঁর নামে।

শরীয়তপুর জেলার উপজেলা/থানা সমূহ

শরীয়তপুর জেলাটি ৬টি উপজেলা/থানা নিয়ে গঠিত, যা হলো:

  1. শরিয়তপুর সদর উপজেলা,
  2. নড়িয়া উপজেলা,
  3. জাজিরা উপজেলা,
  4. গোসাইরহাট উপজেলা,
  5. ভেদরগঞ্জ উপজেলা,
  6. ডামুড্যা উপজেলা।

শরীয়তপুর জেলার দর্শনীয় স্থান সমূহ

এখানে বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলার জনপ্রিয় কিছু পর্যটন আকর্ষণ আছে:

বুড়িরহাট মসজিদ

এটি বুড়িরহাট গ্রামে অবস্থিত ১৭ শতকের একটি মসজিদ। এটি জেলার প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত মসজিদগুলির মধ্যে একটি।

মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম

এটি কেদারপুর ইউনিয়নে অবস্থিত একটি বিনোদন উদ্যান। এটি বিভিন্ন রাইড, গেম এবং আকর্ষণের আবাসস্থল।

সিকদার বাড়ি শিকদার

সিকদার বাড়ি শিকদার গ্রামে অবস্থিত ১৯ শতকের একটি অট্টালিকা। এটি বাংলা স্থাপত্যের একটি চমৎকার নিদর্শন।

হাটুরিয়া জমিদার বাড়ি

হাটুরিয়া জমিদার বাড়ি হাটুরিয়া গ্রামে অবস্থিত 19 শতকের একটি অট্টালিকা। এটি বাংলা স্থাপত্যের একটি চমৎকার নিদর্শন।

মহিশারের দীঘি

এটি মহিশারের গ্রামে অবস্থিত একটি বড় লেক। এটি মাছ ধরা এবং নৌকা চালানোর জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান।

রাম শাধুর আশ্রম

রাম শাধুর গ্রামে অবস্থিত একটি হিন্দু আশ্রম। এটি হিন্দুদের জন্য একটি জনপ্রিয় তীর্থস্থান।

ধানুকা মানশা বাড়ি

এটি ধনুকা গ্রামে অবস্থিত ১৯ শতকের একটি প্রাসাদ। এটি বাংলা স্থাপত্যের একটি চমৎকার নিদর্শন।

রুদ্রোকর মথ

এটি রুদ্রকোর গ্রামে অবস্থিত একটি মুসলিম মন্দির। মুসলমানদের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় তীর্থস্থান।

যে কারনে শরীয়তপুর জেলা বিখ্যাত

শরীয়তপুর জেলা তার সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। শরীয়তপুরকে বিখ্যাত করে তোলে এমন কিছু বিষয় এখানে তুলে ধরা হলো:

আনন্দবাজার বেড়িবাঁধ

আনন্দবাজার বেড়িবাঁধ এলাকা পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত একটি সুন্দর এলাকা। এটি পিকনিক এবং নৌকা ভ্রমণের জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান।

ফতেহজংপুর দুর্গ

ফতেহজংপুর দুর্গ একটি ঐতিহাসিক দুর্গ যা ১৬ শতকে নির্মিত হয়েছিল এটি এখন একটি জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ।

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণ ছাড়াও শরীয়তপুর তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যও পরিচিত। জেলাটি অনেকগুলি নদী, খাল এবং বনের আবাসস্থল। এটি বাঘ, হাতি এবং হরিণ সহ বেশ কয়েকটি বন্যপ্রাণী প্রজাতির আবাসস্থল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
সম্ভবত আপনার ইন্টারনেট সংযোগে ত্রুটি হয়েছে!!